ফিরে পাব না শৈশব স্মৃতির অবিস্মরণীয় দিনগুলি

  • 26 Jan
  • 12:30 AM

মঃ আব্দুল্লাহ আলমামুন 26 Jan, 22

দিন যায়, দিন আসে। কিন্তু প্রতি মানুষের জীবনে শৈশব আসে একবার। আর ঘুরে ফিরে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে বারবার। ফিরে যেতে মন চায় শৈশবের সেই ধুলো বালি মাখা জীবনে। তখন খেলাধুলার মাঝে আনন্দের কোনো সীমা থাকতো না। বাঁধ ভাঙা উল্লাসে সমবয়সী ছেলে মেয়ের মাঝে খেলাধুলার কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবাই একসাথে মিলে হৈচৈ করে প্রতিদিন সময় কেটে যেত। গ্রীষ্মের বিকেলে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘুম না পড়ে সবাই একসাথে আলিঙ্গন করার অনুভূতি আলাদা। গ্রামের পুকুর, নদীতে গোসল করতে গিয়ে লুকোচুরি এবং নলি খেলা। পানিতে ডুব দিয়ে পুকুরের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে সাঁতার কেটে যাওয়া। এক সময় নিজেকে ব্যাঙাচির মতো লাগে দীর্ঘ সময় সাঁতার কেটে নলি খেলার ফলে। হালকা কাপড় দিয়ে পুকুর থেকে ঘুচো চিংড়ি মাছ ধরা স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
অপরাহ্ন হতে না হতেই অন্যদের ডেকে খেলা করা। খেলার মধ্যে জনপ্রিয় ছিল এক্কাদোক্কা, কুসুম, দাড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, কানামাছি ভোঁ ভোঁ ইত্যাদি।

কানামাছি খেলার সময় একজনকে চোখ বেঁধে দেয়া হতো। তখন সে চোখ বাঁধা অবস্থায় অন্যদের ধরার চেষ্টা করবে আর যাকে ধরতে পারবে তার চোখ বেঁধে দেওয়া হবে। আর সবাই বলে, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছো। জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোতে কপালে টিপ দেওয়া খেলা খুব আনন্দের ছিল। খেলা শেষ হলে যে হেরে যেতো তাকে কোনো বৃদ্ধ মানুষের নাম ধরে বিয়ে দেওয়া হতো। এছাড়া আমের আটি নিয়ে খেলা অনেক মজার ছিল।
কিন্তু সবচেয়ে মুগ্ধকর খেলা ছিল রাজা রানী। এতে ছেলে বর হতো আর মেয়েরা বউ সাজতো। ছেলেরা রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করতো। আর রাজার মুকুট ছিল আমপাতা দিয়ে পেঁচানো রাজমুকুট। কিন্তু মজার বিষয় হলো একটা রাজার ৩-৪ টা বউ থাকতো। আর রানীরা রান্না করার জন্য কাঁদা দিয়ে হাঁড়ি পাতিল তৈরি করতো। পরে তা রোদে শুকিয়ে উনুনের আগুনে পুড়িয়ে খেলার উপযোগী হতো।

আনন্দ শুধু খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ ছিল না। সবাই মিলে চড়ুই ভাত রান্না করে খাওয়ার অনাবিল আনন্দ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। চড়ুই ভাতের জন্য সবাই নিজ নিজ বাড়ি থেকে চাল, ডাল, মরিচ, তেল, রসুন নিয়ে রান্না করা হতো। আর ছেলেরা গাছে গাছে উঠে চড়ুই পাখি ধরে নিয়ে আসত। তারপর উঠানে নতুন উনুনে সেই ভাত, ডাল, মাংস রান্না করা হতো। সবার মাঝে খুশির জোয়ার থাকত। রান্না শেষ হলে সবাই একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া করবে। কিন্তু খাওয়ার পাত্র হিসেবে কলা গাছের পাতা ব্যবহার করা হতো। এমন আনন্দ এখন আর নেই। বর্তমানে আনন্দের মাধ্যম হয়েছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া। এতে শিশুরা আসক্ত হয়ে গেছে। স্মার্টফোনে অনলাইন গেমে সময় পার করছে। এতে শারীরিক, মানসিক চিত্তবিনোদনের পরিপন্থী হয়ে গেছে। কিন্তু শৈশবের সেই দিনে একসাথে খেলাধুলার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া তৈরি হতো, এখন আর তা হয় না। জীবনে অনেক খুশির সময় আসবে, কিন্তু ফিরে পাওয়া যাবে না শৈশবের সেই ধুলো বালি মাখা দিনগুলি।

লেখক: মোঃ আবদুল্লাহ আলমামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা