জবি শিক্ষার্থী অঙ্কনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি

  • 13 May
  • 11:01 AM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবি প্রতিনিধি 13 May, 22

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন অংকন বিশ্বাস। তিনি অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। এছাড়াও তিনি ভালো বিতার্কিক ছিলেন। আন্তঃব্যাচ, আন্তঃবিভাগ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে একাধিকবার অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। তার সুনিপুণ ভঙ্গিমায় নাচ, মায়াবী গানের গলা, সুন্দর করে কথা বলা সবকিছু ছাপিয়ে অসম্ভব রকমের একজন ভালো মানুষ অঙ্কন বিশ্বাস। সে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারেনা, তাঁকে হত্যা করে হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারে (১২ তম ব্যাচ) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অঙ্কন বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

এ সময় মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, ডিবেটিং সোসাইটি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান বক্তারা। এসময় ইংরেজি বিভাগ সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে Justice for Ankan, দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে, Stand for Ankan, কেন অকালে ঝরে গেলো মেয়েটি, Speak Up, অঙ্কনের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? এসব লেখা থাকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অংকন বিশ্বাসের মৃত্যু স্বাভাবিক কোন মৃত্যু ছিল না। এই মৃত্যুর পিছনের অনেক রহস্য উন্মোচন হোক এতটুকুই চাওয়া আমার, আপনার, সবার। সবাই যেভাবে অংকন বিশ্বাসকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। আশা রাখি সবাই এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে এক হয়ে আওয়াজ তুলবেন।দোষী যে বা যারাই হোক অবশ্যই আইনের উর্ধ্বে নয়। অংকন বিশ্বাস অবশ্যই ইংরেজি বিভাগ তথা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ছিলেন।অংকনের চিকিৎসায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের শিক্ষকদের পাশে পেয়েছি। আশা রাখি এই লড়াইয়েও সবাইকে পাশে পাবো।

এছাড়াও ফেসবুকে #ankan_needs_justice,
#fight_for_ankan সহ বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অঙ্কনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই আমি অংকন দিদির সাথে মিশেছি। তাঁর কাছ থেকে বিতর্ক শিখেছি, একসাথে বিতর্ক করেছি। তাঁর মতো স্পষ্টভাষী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, আত্মবিশ্বাসী ও মেধাবী শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেনা, আমি বলছি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়াল দাস অনুপ বলেন, 'অংকন বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। এই ঘটনাও যাতে আগের মতো ধামাচাপা পরে না যায় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, 'অংকন বিশ্বাসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার জন্য আমরা যেভাবে সবাই এগিয়ে এসছিলাম, তেমনিভাবে এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনেও আমরা সবাই এগিয়ে আসবো এই প্রত্যাশা।'

নাট্যকলা বিভাগের ১২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সোমা বলেন, 'অঙ্কন বিশ্বাস একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অকালে একটি ফুল ঝরে পড়লো আমরা তা মেনে নিতে পারছিনা। তার এ রহস্যজনক মৃত্যু ধামাচাপা না পড়ুক। তদন্ত করে বের করা হোক কি কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছে এসব নিয়ে না কথা বলে জগন্নাথের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর মৃত্যুর কারণ বের করে আনতে সবার এগিয়ে আসা উচিত। এ নিয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি, তাঁর পরিবারও চুপ করে রয়েছে। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। তা না হলে প্রতিদিন এরকম অনেক অঙ্কন বিশ্বাসের মৃত্যু বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ে থাকবে। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে তাঁর পরিবারের ও সহযোগিতা করা উচিৎ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই মৃত্যু রহস্য তদন্তের দাবি জানাই।'

অঙ্কন বিশ্বাসের মৃত্যু নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল স্বামীর বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন অঙ্কন বিশ্বাস। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৮ মে মৃত্যুবরণ করেন অঙ্কন। মৃত্যুর পর জানা যায় ধর্মান্তরিত করে এই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ।