বাকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন

  • 10 Oct
  • 02:50 PM

আতিকুর ররহমান,বাকৃবি প্রতিনিধি 10 Oct, 21

'বিশ্ব ডিম দিবস ২০২১” পালন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ। এ দিবস পালন উপলক্ষে ৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ওই বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

আজ ১০ অক্টোবর (রবিবার) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সার্বজনীন ডিম খাওয়ানো কর্মসূচি ও দুপুরে ”দ্যা এগ: এ মিরাকল অব ন্যাচার“ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। "প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই" এ স্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে পশুপালন অনুষদের গেইটের সামনে সার্বজনীন ডিম খাওয়ানো কর্মসূচিটি উদ্ভোদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। এ সময় সার্বজনীনভাবে উপস্থিত সবাইকেই বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) শেষ মোড়, পোল্ট্রির মোড়, ব্রীজ মোড় ও ফসিলসহ বিভিন্ন জায়গায় এতিমখানা, স্কুল ও মাদ্রাসায় প্রায় ২ হাজার ডিম বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় সাড়ে দশটার দিকে পশুপালন অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্ব পোল্ট্রি বিজ্ঞান সংস্থার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ডিমে রয়েছে মানব শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান। ১ ডিমে প্রায় ৭.৫৫ গ্রাম প্রোটিন, ০.৪৬ গ্রাম কার্বহাইড্রেড, ৫.৯৬ গ্রাম ফ্যাট, ওমেগা ৩ এবং ৬ ফ্যাটি এ্যাসিড। ডিমের কুসুমে আছে ভিটামিন এ, ডি, ই , কে এবং জিংক। বায়োলজিক্যাল ভ্যালুর দিক থেকেও ডিম সবার উপরে। ডিমের বায়োলজিক্যাল ভ্যালু ৯৩.৭। যেখানে দুধের ভ্যালু ৮৪.৫ এবং গরুর মাংসের ৭৪.৩।

তিনি বলেন, ডিমের কোলেস্টেরল শরীরের জন্যে ক্ষতিকর নয়। এটি ভালো কোলেস্টেরল তৈরিতে সাহায্য করে। আমাদের লিভার এমনিতেই দৈনিক ২০০০ মি.লি. কোলেস্টেরল তৈরি করে। একটি ডিম খেলে ১৮৫ মি.লি কোলেস্টেরল তৈরি হয়। এতে কোলেস্টেরল তৈরিতে লিভারের উপরে চাপ কমে। গবেষণায় দেখা যায়. ডিম খেলে প্রায় ৪৪% ব্রেস্ট ক্যান্সার কমে যায়। একজন দিনে সর্বোচ্চ ৩ টি এবং কমপক্ষে ১ ডিম খেলে বায়োলজিক্যাল কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় না। এছাড়াও ডিম খেলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি এবং চাপ কমে। ডিম সেরোটিন লেভেল বাড়ায়, থাইরোয়েড ফাংশনের উন্নয়ন ঘটায় এবং ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে। ডিমের প্রোটিনে কার্বনের পরিমাণ কম যা শরীরের জন্যে ভালো। এছাড়াও এসডিজির ১৭ টি লক্ষের মধ্যে ৯ টি লক্ষ পূরণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ডিমের অবদান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, প্রতিদিন ছাত্র-শিক্ষক এবং শ্রমজীবী প্রত্যেকের ১ টি করে ডিম খাওয়া উচিত। যে যতো পরিশ্রম করে তার ততো পুষ্টির প্রয়োজন হয়। আর ডিমের মধ্যে প্রায় সকল পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। দাম তুলনামূলক কম হলেও নিম্ন আয়ের মানুষও প্রতিদিন ডিমের পুষ্টি গ্রহণ করতে পারবে। ডিমের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রাপ্যতা বৃদ্ধির লক্ষেও কাজ করে যাচ্ছে বাকৃবির পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। কিন্তু নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার নিয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।

সেমিনারে পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক, ভেটেরিনারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড এ. কে. এম. জাকির হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদসহ বিশ্বিবিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।