‘বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যত নিশ্চিত হোক’

  • 23 Sept
  • 02:05 PM

লুৎফুন্নাহার লাইমা 23 Sept, 21

"সাহিত্য" তিন অক্ষরের এই শব্দটির বিস্তৃতি বিশ্বের সর্বত্রজুড়ে৷ সাহিত্য ছড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ের শিরা উপশিরাতে৷ নিজ সংস্কৃতিকেন্দ্রীক দেশীয় সাহিত্যের পাশাপাশি মানুষের মন চলে যায় সুদূরের বিদেশী সাহিত্যের দিকেও৷ বিদ্যালয়ের পাঠাগার থেকে দেশের জাতীয় পাঠাগারে থরে থরে সাজানো লক্ষ লক্ষ সাহিত্যের বই৷ ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এক অদৃশ্য সেতু এই বাংলা সাহিত্য৷

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় সাহিত্যচর্চার অনুকূল পরিবেশে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বপর্যায়ের বহু সাহিত্য৷ ইংরেজি সাহিত্যের মতোই বাংলা সাহিত্য পেরিয়েছে কতো যুগ! বিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্থান করে নিয়েছে আধুনিক বাংলা সাহিত্য হিসেবে৷ তবে এই আধুনিকতা শব্দটিই কখনো কখনো বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সকল সৃজনশীলতার বিপরীতে৷ সাহিত্যচর্চার পরিবেশ হয়ে উঠেছে অসুস্থ ও খাপছাড়া৷ বইয়ের সংগ্রহ তালিকা গিয়ে ঠেকেছে বিজ্ঞানের সব যোগাযোগ যন্ত্রে৷ হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসে উজ্জ্বল প্রকাশনীগুলো৷ কমে আসছে বইয়ের দোকানের সংখ্যাও৷ মিলিয়ে যাচ্ছে নতুন বইয়ের গন্ধ৷ তালাবন্ধ হচ্ছে এলাকাভিত্তিক কতো সাহিত্যক্লাব ও পাঠাগার৷ দুঃখজনকভাবে বই উপহার দেয়াকে লোকে করেছে তাচ্ছিল্যের বিষয়৷

হাজারো গুনীজন তাদের চিহ্ন রেখে গেছেন এই বাংলা সাহিত্যে৷ অল্প সংখ্যক নাম ছাড়া আমরা আজ ভুলতে বসেছি তাদের অবদান৷ দুঃখের বিষয় নতুন প্রজন্ম থেকে আগামী প্রজন্ম অনেকেই হয়তো স্মরন করবে না এই অল্প সংখ্যক নামও৷ ঝাপসা হয়ে আসছে বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্ররাজি৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আজও রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হলেও তাদের সাহিত্যের পাতাগুলো আজ পোকাকাটা ও জরাগ্রস্থ৷ ই-বুকে পড়তে গিয়ে বাড়ে ক্লান্তি বিরক্তি৷

চিরদিনের সাহিত্যিকেরা হারিয়ে গেলে নতুন প্রজন্ম থেকে হয়তো উঠে আসবে না আর কোনো বাংলা সাহিত্যিক৷ জগবিখ্যাত সমৃদ্ধ এই সাহিত্য হারিয়ে যাবে অচিরেই৷ নতুন প্রজন্মে চিহ্ন থাকবে না বাংলার ঐতিহ্যের৷ মুছে যাবে সংস্কৃতির রঙ৷ তাই গড়ে উঠুক আবার সেই পরিবেশ নতুন উদ্যোগে৷ সাহিত্যচর্চা হয়ে উঠুক নিত্যদিনের অভ্যাস৷ লেখালেখিকে কেন্দ্র করে জন্ম নেক নতুন পত্রিকারা৷ অভ্যাস গড়ে উঠুক বই পড়ার, বই কেনার, বই উপহার দেয়ার৷ বাংলা সাহিত্য পুনজ্জিবীত হোক নতুন প্রজন্মের হাত ধরে৷

লেখকঃ-
লুৎফুন্নাহার লাইমা
শিক্ষার্থী, ইংরেজি ভাষা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।