বন্ধ হোক বন্ধ্যা শব্দ

  • 24 May
  • 09:39 PM

হুমায়রা আনজু৷ শ্যামসী 24 May, 22

সন্তান হল সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তিনি যে দম্পতির ওপর রহমের ইচ্ছা করে থাকেন তাদের উপহার স্বরূপ সন্তান দান করে থাকেন।

সকল দম্পতির সাফল্য শুধু সন্তানে থাকে না।


অনেক দম্পতিকে একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে, সন্তান কবে নিবে? কেউ কি একবার ভেবে দেখেছে সন্তান কেউ নেয় নাকি সৃষ্টিকর্তা দেয়।
অনেক দম্পতিকে দেখা যায় একটা সন্তানের জন্য হাহাকার করে। বিয়ের অনেক বছর পার হয়ে গিয়েছে কিন্তু সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়ে ওঠেনি। তারা কি
এত বছর ডাক্তার কবিরাজ দেখানো থেকে বিরত ছিলেন? নাকি দেশ বিদেশের নামকরা ডাক্তার দেখিয়েও তারা নিরাশ? সন্তান হওয়া টা কি শুধু স্বামী স্ত্রীর
উপর নির্ভর করে? নাকি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করে? এমন অনেক প্রশ্নই থেকে যায় জীবনের পাতায় পাতায়। কে রাখে সে বেনামী প্রশ্নের পরিসংখ্যান।


আসলে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারে কাকে তিনি সন্তান দান করবেন এবং কাকে তিনি সন্তান দান করবেন না। আমাদের সমাজে কোনো দম্পতির সন্তান না হলে
সেই স্ত্রীকে বন্ধ্যা ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাকে বিভিন্নভাবে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। সত্যি কি সন্তান হওয়া না হওয়া টা তার হাতে?
সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেকটি মেয়েকে মা হওয়ার জন্য পৃথিবীতে সৃষ্টি করেননি। অনেকেই মা হতে পারে অনেকেই মা হতে পারে না। যাঁরা মা হতে পারে না তাদের জন্য
সন্তান কখনোই কল্যাণকর ছিলোনা। তারা দেশ, সমাজ, মানুষের জন্য কাজ করার জন্য জন্মগ্রহণ করেছে। নিজের সন্তান না থেকেও অনেকেই আবার লক্ষ সন্তানের
জননী হয়েছেন।


আবার অন্যদিকে দেখা যায় কিছু দম্পতি ডাক্তারের চেম্বারে লাইন ধরে আছে, তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তারা তাদের সন্তানের হত্যাকারী হতে
চায়। অনেক সময় দেখা যায় হসপিটালের সামনে ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পিতা। সদ্য জন্মানো শিশুর চিৎকার শুনতেই অনেক পিতা আল্লাহর শুকরিয়ায়
লুটিয়ে পড়ে।

আসলে সব মেয়েই মা হওয়ার জন্য জন্মায়নি, কিছু কিছু মেয়ে তাদের ক্যারিয়ারকে সফলতার শীর্ষে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে জন্মেছে। তারা জন্মেছে অন্যের দিকে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। তারা জন্মেছে নিজের দেশ ও নিজের জাতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য। যে সকল নারীদের বন্ধ্যা ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া
হয় আদৌ কি কোন মানুষ তাদের মানসিক অবস্থাটা বুঝতে পারে? তাদেরও যে কষ্ট হয়। যদি আল্লাহ তার নিয়ামত তার ওপর না দেয় এটা কি তার অপরাধ?
তাহলে সমাজ কেন তাকে বন্ধ্যা ট্যাগ লাগিয়ে দিবে। আসুন সমাজের সকলে মিলে "বন্ধ্যা" শব্দটা কে মুছে ফেলে তাদের একটু মানসিক শান্তি নিশ্চিত করি।