শতকে এক মণেরও বেশি ফলন দিচ্ছে বিনাধান-১১

  • 12 Nov
  • 11:09 AM

আতিকুর রহমান, বাকৃবি প্রতিনিধি 12 Nov, 21

বন্যাসহিষ্ণু ও স্বল্পমেয়াদী এবং প্রতি শতকে ১ মণেরও বেশি ফলন দেবে বিনাধান-১১। এই ধান দেশের আকস্মিক বন্যাপ্রবন অঞ্চলে আবাদ করার জন্য উপযোগী যা ২০-২৫ দিন পর্যন্ত জলমগ্ন হলেও প্রচলিত আমন ধানের তুলনায় বেশি ফলন দিবে। এই ধান ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড বন্যাসহিষ্ণু ধানের জাত হিসেবে বিনাধান-১১ নামে অনুমোদন দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই ধানের জীবনকাল ১১৫-১২০ দিন আর জলমগ্ন অবস্থায় তার জীবনকাল ১৩০-১৩৫ দিন। এই ধান পানিতে ডুবে উপরের অংশ পঁচে গেলেও সেখান থেকে আবার চারা গজায়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই ধান প্রতি হেক্টরে ৫.০০-৫.৫ টন এবং জলমগ্ন অবস্থায় হেক্টর প্রতি ৩.৫-৪.০০ টন ফলন দিবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কর্তৃক আয়োজিত মাঠ দিবসে কৃষকদের সামনে এ কথা বলেন বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল হোসেন।



তিনি কৃষকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, এখানকার জমি উর্বর। আপনারা এই জমিতে বছরে ৪-৫ টি ফসল করবেন। বিনা -১১ কাটার পর সরিষা, শাক-সবজি অথবা ইরি ধান চাষ করতে পারেন। এতে আপনারা লাভবান হবেন। পানিতে টানা ২৫ দিন ডুবে থাকলেও চারা নষ্ট হবে না। আপনারা সবাই একসাথে চাষ করবেন। তাহলে পোকামাকড়ের প্রভাব কম হবে। পরিমাণ মতো সার দিতে হবে কমও না বেশিও না। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বিঘাতে ৫ কেজি পটাস দিলে চিটা হবে না। ধানের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।



বুলবুল নামের এক কৃষক বলেন, আমি বিনা ধান-১১ করে আগের থেকে বেশি লাভ পাচ্ছি। আগে যেখানে ৭ শতাংশ জমিতে চাষ করে ৩-৪ মণ ধান পেতাম সেখানে এই ধান চাষ করে ৬-৭ মণ ধান পাচ্ছি। এই ধান পরবর্তীতে আরো আগেই চাষ করবো। যেনো ফলন আগেই হয় এবং অন্য ফসলও আবার চাষ করা যায়।



বিনার গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে এবং ড. শামীমা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং ড. মনজুরুল আলম মন্ডল। এছাড়া প্রায় ৬০ কৃষক এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।