পোর্টসিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ সম্পন্ন

  • 12 Nov
  • 02:04 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি, পিসিআইইউ, চট্রগ্রাম 12 Nov, 21

চট্টগ্রামের পোর্টসিটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল-২০২১ এর নবীন বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ’একসময় চট্টগ্রাম শহরে আমি ওভার ব্রিজ দেখি নাই। বর্তমানে অনেক ওভার ব্রিজ দেখতে পেয়েছি। চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন মূলক প্রকল্প হচ্ছে। যেমন ফ্লাইওভার, কর্ণফুলী টানেল হচ্ছে। এগুলো দৃশ্যমান হলে চট্টগ্রাম একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হবে। শেখ হাসিনার সরকারের অর্জনের শেষ নেই। ভবিষ্যতে ২০৪১ সাল এবং এরপর কেমন হবে দেশ তার জন্য নেত্রী ডেল্টা প্ল্যান পরিকল্পনা করে রেখেছেন।’

‘সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ৫ বছরে অনেক ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা হয়েছিল। সরকার সফলতার সাথে সেসব মোকাবেলা করেছি। চট্টগ্রামের ১২টি প্রকল্পের জন্য ৭ হাজার ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে ৬টির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। বাকি ১টি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সেটাও শেষ হয়ে যাবে।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকে রাজনীতি করে আসছি। রাজনীতি করার কারণে আমার ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে। এমনকি ঘরে ঘুমাতে পারতাম না। আমার ছেলেরা আমাকে ভোট দিয়ে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত করেছিল। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্বে আছি। কিন্তু আমি যখন ক্যাম্পাসে ঢুকি তখন রাজনীতি ভুলে যাই। ক্যাম্পাসে আমি রাজনীতি আগেও সমর্থন করিনি, সামনেও করবো না।’

পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রধানমন্ত্রী নিজে ঠিক করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নামটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ঠিক করে দিয়েছিলেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তিদের প্রতি আমার অন্যরকম টান রয়েছে। রাজনীতি, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত এই প্রতিষ্ঠানে গত ৮ বছরে একটা ছোট বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেনি।’

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমাদের কলেজে শুধু একটা কম্পিউটার ছিল। আমরা ওজু করে কম্পিউটার ধরতাম, আমি নিজেই এমনটা করেছি। কম্পিউটারের প্রতি আমাদের যেমন ছিল আকর্ষণ তেমনি ছিল ভয়। কারণ বর্তমান সময়ের মত এতো ডিজিটালাইজেশন সেসময় ছিল না। আর আজকে ঘরে বাইরে, স্কুল-কলেজে আধুনিক প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। আর এটা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কারণেই। এই উন্নয়নের দাবিদার জননেত্রী শেখ হাসিনা।’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব মহামারীর সময়ে সব কিছু থমকে গেলেও আমাদের অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চলমান ছিল। সেটার সাফল্যও আমরা পেয়েছি। অনলাইন ক্লাসে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পোর্ট সিটি ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। মহামারী করোনার সময় সেমিস্টার ফি টাকার জন্য কোনো শিক্ষার্থীদের চাপ দেওয়া হয়নি। গত ২ বছরে মাত্র ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী টিউশন ফি পরিশোধ করেছে। আমি বলে দিয়েছিলাম টাকার জন্য আমার কোন ছেলে-মেয়ের যেন পড়ালেখা বন্ধ না হয়।’

তিনি বলেন, ‘যে জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস করেছি। সে জায়গা ছিল জঙ্গল। মানুষ ভয়ে হাটতে পারতো না। সে ভয়ঙ্কর জায়গায় আমি ভার্সিটি করেছি। সেখানে বসে আমার হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করতেছে। ভার্সিটির ভবন যখন শুরু করি। তখন কত তলা ভবন হবে সেটা চিন্তা করি নাই। পড়ালেখার মানকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা অতিশীঘ্রই কল্পলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে যাবো। বিজয়ের মাসে সম্ভব না হলে স্বাধীনতার মার্চ মাসে স্থানীয় ক্যাম্পাসে চলে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি ক্যাম্পাস হবে। আমি আপনাদের কথা দিলাম।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে রত্নগর্ভা বেগম আশ্রাফুন্নেসা ফাউন্ডেশন থেকে বিভিন্ন কাগরিতে ৬ লাখ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কালচার ফোরামের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরল আনােয়ার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাের্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় চেয়ারম্যান তাহমিনা খাতুন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সদস্য অধ্যাপক ড. এম মুজিবুর রহমান, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মাে. মিজানুর রহমান, মােহাম্মদ আলী আজম স্বপন, ডা. জাহানারা আরজু, রেজিস্ট্রার ওবায়দুর রহমান প্রমূখ।