নোবিপ্রবিতে ২য় জাতীয় খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান শীর্ষক সেমিনার

  • 21 June
  • 08:04 PM

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 21 June, 22

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( নোবিপ্রবি) ২য় বারের মতো আয়োজিত হয়েছে খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান শীর্ষক সেমিনার।

আজ(২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ২ এর ভিডিও কনফারেন্স রুমে খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য, খাদ্যাভাস পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম,বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আব্দুল বাকি, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন “পুষ্টি খাতে গবেষণার মানউন্নয়নে বাজেট আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে বলেন বেঁচে থাকার জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে”।


সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা দে এবং আহবায়ক ছিলেন পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রাহানুর আলম।

অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক মো.নিজামুল হক ভূঁইয়া,বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্সের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড.মো.আমিনুল হক ভূঁইয়া,যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.শিরিন নিগার,মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.এ কে ওবায়দুল হক,এলকুমাস বাংলাদেশের সিইও ইমরুল হাসান।



অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের জনসাধারণের মাঝে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।তারা বলেন,সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার গুরুত্ব অপরিসীম।বিভিন্ন ক্ষতিকর মেটাল দিয়ে খাদ্যে দূষণ হচ্ছে।খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে।কিন্তু খাদ্য সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিশু এবং নারীরা বিভিন্ন ধরনের অপুষ্টির শিকার যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জন্মের সময় ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা, খর্বাকৃতি এবং বিভিন্ন পুষ্টির অভাব। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতির অনিয়মিত প্রয়োগ আমাদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির অভাববো আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দেয় যা কোনভাবেই কাম্য নয়।


অতিথিরা আরো বলেন,আলোচ্য সেমিনারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এই সকল বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করে এবং তাদের সৃজনশীলচিন্তা ও গঠনমূলক মতামত প্রদানের সুযোগ লাভ করে যা ভবিষ্যতে তাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাজ করতে আগ্রহী করে তুলবে।এছাড়াও অতিথিরা খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় গাইডলাইন নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা করার আহবান জানান।

উক্ত সেমিনারে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অংশগ্রহণকারীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের থেকে সেমিনার বিষয়ক পোস্টার আহবান করা হয় এবং সেরা তিনজন পোস্টার প্রেজেন্টেশনকারীকে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ দিদার-উল-আলম।

সেমিনারে খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।