আনন্দঘন পরিবেশে হোক শারদীয় দুর্গোৎসব

  • 11 Oct
  • 10:01 PM

ববিতা মন্ডল সোমা 11 Oct, 21

শরতের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে আগমন ঘটে দেবী দুর্গার। প্রতিটি হিন্দু সমাজে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পালন করা হয় শরৎকালের এ শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষেও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় যা "বাসন্তী পূজা" নামে পরিচিত।


কথিত আছে, শ্রীরামচন্দ্র রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য মায়ের অকালবোধন করে পূজা করেন। সেই থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা সবার বিপদ সংহার করবেন এবং জগতের মঙ্গল করবেন এই বিশ্বাসে ষষ্ঠী থেকে দশমী এই ৫ দিন মায়ের মন্দির ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। প্রতিদিন উপবাস থেকে ভক্তি সহকারে মায়ের নিকট ভোগ নিবেদন করা হয় এবং ভক্তদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। তবে দুর্গাপূজায় কুমারী পূজাকে খুব গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়। অষ্টমী তিথিতে ষোল বছরের কম বয়স্ক কুমারী কন্যাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। কুমারী পূজায় বিভিন্ন বয়সের কন্যাকে বিভিন্ন নামে পূজা করা হয়। এক বছরের কন্যাকে সন্ধ্যা, দু’বছরে সরস্বতী, তিন বছরে ত্রিধামূর্তি,চার বছরে কালিকা, পাঁচ বছরে সুভগা,ছ’বছরে উমা, সাত বছরে মালিনী, আট বছরে কুঞ্জিকা, ন'বছরে কালসন্দর্ভা,দশ বছরে অপরাজিতা, এগারো বছরে রুদ্রাণী, বারো বছরে ভৈরবী, তেরো বছরে মহালক্ষ্মী, চৌদ্দ বছরে পঠিনায়িকা, পনেরো বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরের কন্যাকে অম্বিকা রূপে পূজা করা হয়। অতপর দশমীতে দেবী দুর্গার বিসর্জন। দশমীতে বিবাহিত স্ত্রীগণ একে অন্যকে সিঁদুর পড়িয়ে দেন, মিষ্টি মুখ করান। ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্মতা প্রকাশ করেন আর মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন জগতের সুখ-সমৃদ্ধি।


শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়