টিকা নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

  • 27 Sept
  • 03:31 PM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ 27 Sept, 21

দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক। খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও নিচ্ছেন টিকা। হয়তো খুব শীগ্রই খুলবে ক্যাম্পাসও। এই টিকা সকলের মনেই ছিলো নানা জল্পনা-কল্পনা। টিকা গ্রহণ, ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা ভাবনা ও প্রত্যাশা। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর টিকা নিয়ে ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক - মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।


নতুন জীবনে ফিরতে টিকার বিকল্প নেই

বিশ্বায়নের এই যুগে একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ যেখানে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে কোভিড-১৯ নামক ভাইরাসের থাবা মানুষের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দেয়। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে অনেক শক্তিশালী ও প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশও অসহায় হয়ে পড়ে এবং সেই সাথে ধ্বসে পড়ে অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা। বাংলাদেশও এর থেকে পরিত্রাণ পায়নি। এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকম টিকার উদ্ভব ঘটায়। তন্মধ্যে মর্ডানা, ফাইজার, সিনোফার্মা অন্যতম। কিন্তু টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ পায়। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে জয় করে টিকা নেওয়া শুরু করেছে এবং এর সুফলও পাচ্ছে। বলাবাহুল্য, দেড় বছর পূর্বে যেখানে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ করোনা নিয়ে আতঙ্কে ছিল এখন তার বিপরীতে সমাধানও রয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হলেও এর প্রতি মানুষের আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে সম্পূর্ণ টিকার আওতায় নিয়ে আসতে সর্বাত্নক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পরিশেষে, টিকা গ্রহণই পারে মানুষের জীবনযাত্রাকে সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তাই জীবনধারাকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে নিজে টিকা গ্রহণ করি এবং অন্যকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করি।

পারভেজ মোশারফ
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ


পুনরায় প্রাণোচ্ছল পৃথিবী গড়বে ভ্যাকসিন

করোনা ভাইরাস জনিত রোগ। যা অনিশ্চিত করে দিয়েছে আমাদের ভবিষ্যৎ। সৃষ্টিকর্তার কাছে অবারিত শুকরিয়া আমাদের দেশ করোনা মহামারীর ভয়াবহতা থেকে অনেকাংশেই বেঁচে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কোভিশিল্ড, মডার্না, সিনোফার্ম এর টিকা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৮ বছরের উর্ধ্বে সকলকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প আর কিছু দেখছিনা। আমি মনে করি, এই টিকা অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখবে, যা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে সাহায্য করবে। কিন্তু অনেকের মনে রয়েছে টিকা নিয়ে সংশয়, সংশয় কাটিয়ে উঠতে হবে। তাই আমি বলবো, নিজে টিকা নিন, অন্যকে টিকা নিতে উৎসাহিত করুন। তরুণ সমাজের টিকা বিভ্রান্তি দূর করতে আমাদের সবার সঠিক তথ্য প্রকাশ করে এবং সঠিক তথ্য সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে তরুণগণ স্বেচ্ছায় টিকা গ্রহণ করে। বেশি বেশি সাবান দিয়ে হাত ধৌত করুন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, মাস্ক ব্যবহার করুন। এই টিকাই পারে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরাতে। করোনার টিকা নিয়ে আসুক সুন্দর বার্তা এটাই আমার প্রত্যাশা।

রাত্রি আক্তার
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ


টিকা নিন, সুস্থ থাকুন

দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও ছাত্র হিসেবে আমি অবশ্যই সকল জল্পনা-কল্পনা কে পাশ কাটিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনায় টিকা গ্রহণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানাই বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে তিনি যেভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন আর ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন করেছেন তা অতুলনীয়। সাধারণ মানুষের মনে যে ভয় বা সংশয়গুলো রয়েছে, সেটা থেকে যদি তাদের বের করে আনা যায় বা তাদের মধ্যে করোনার টিকা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো আছে, সেটার সমাধান দেওয়া যায়, হয়তো তবেই এই করোনা টিকা নিয়ে মানুষের চিন্তা, সংশয়ের সমাধান সম্ভব। জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনার টিকা দেওয়া উচিৎ। সারাদেশে শিক্ষা ব্যাবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এর কোন বিকল্প দেখছিনা। টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে এবং দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে সরকারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিৎ। ভ্যাক্সিন নিতে অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা বাতিল করে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সারাদেশে ভ্যাক্সিনের সুষ্ঠু বন্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজে ভ্যাকসিন নিন এবং নিজের পরিবার, আশপাশের মানুষকেও নিতে উৎসাহিত করুন।

রিদুয়ান ইসলাম
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ


সুনির্দিষ্ট ব্যবস্হাপনায় নিশ্চিত হোক টিকা

করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে টিকা দেওয়া ছাড়া আর কোন উপযুক্ত পদ্ধতি আমাদের হাতে নেই। মানুষ প্রথম দিকে টিকা গ্রহণে আগ্রহী না হলেও এখন আগ্রহী হয়ে উঠছে। প্রথমে চল্লিশ বছর উর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা ধীরে ধীরে আঠারো বছর উর্ধ্ব করা হয়েছে। শুরু হয়ছে গণটিকা কার্যক্রম। আর এই টিকা দেওয়া নিয়ে নানা সময়ে জনগণের মধ্যে নানা ধরণের ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছিল শতভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতাধীন হলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু, সেই আশ্বাসের চোরাবালিতে ডুবছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এখনো নানা জটিলতায় একশত ভাগ টিকা নিশ্চিত করা হয়নি। অনেকেই হয়ত রেজিস্ট্রেশন করেছে কিন্তু তার মেসেজ আসেনি। সে আর টিকা গ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা দূর করে টিকার আওতায় আনতে হবে। যত দ্রুত টিকার আওতায় আনা সম্ভব, তত দ্রুতই মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, স্বাভাবিক হয়ে উঠবে অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা। করোনার সংক্রমণ আরো কমাতে আমাদের সকলকে টিকার আওতাধীন করতে হবে। এজন্য আমাদের কর্তৃপক্ষকে একটি সুস্থ টিকাদানের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সঠিক ব্যবস্হাপনায় যদি আমরা শতভাগ মানুষকে টিকার আওতাধীন করতে পারি তাহলেই আমাদের দেশ করোনা মুক্ত হবে। পাশাপাশি সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এই পৃথিবী।

সাদিয়া সাবাহ্,
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ