বাঁশে প্রস্রাব করতে নিষেধ করায় পেটালেন কুবি ছাত্রলীগের দুই নেতা

  • 18 Mar
  • 01:18 PM

মাহমুদুল হাসান নয়ন, কুবি প্রতিনিধি 18 Mar, 22

ডেকোরেশনের বাঁশের উপর প্রস্রাব করতে নিষেধ করায় স্থানীয় এক যুবককে মেরে রক্তাক্ত করেছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার সাকিব। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট সংলগ্ন এটিএম বুথের পাশে ফয়সাল ডেকোরেশনের বাঁশের উপর প্রস্রাব করেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত উল্লাহ। এসময় স্থানীয় রনি মজুমদার নামে একজন যুবক ডেকোরেশনের বাশের উপর প্রস্রাব করতে নিষেধ করলে খায়রুল বাশার সাকিব প্রথমে ওই যুবকের বাইকের চাবি কেড়ে নেয় এবং সাথে সাথে এনায়েত উল্লাহ রনির মুখে এলোপাথাড়ি ঘুষি দেয়। এতে রনির নাক ফেটে গেলে গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা এনায়েত ও খায়রুল বাসার সাকিবকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা পাশে থাকা কাঠের দোকান থেকে কাঠ নিয়ে রনিকে আরও মারতে বারবার রনির দিকে তেড়ে যান।

এ ব্যাপারে আহত মো. রনি মজুমদার বলেন, আমি শুধু তাদের বাঁশের উপর প্রস্রাব করতে মানা করেছিলাম। কিন্তু সাকিব আর এনায়েত মিলে আমাকে মেরে আহত করেছে। মারামারির সময় সাকিবকে দেখে আমার স্বাভাবিক মনে হয়নি।

এ ব্যাপারে তিনি কোন আইনি সহায়তা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে সবার সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিব।

মারধরের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার সাকিব বলেন, তার সাথে আমার এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি শুধু তর্কাতর্কি হয়েছে। তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে সে ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আমি ওখান থেকে চলে এসেছি।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমি তাকে মারিনি। সেখানে হাতাহাতি হচ্ছিল আমি ছুটাতে গিয়েছি আর ছুটাতে গেলে তো একটু ধাক্কাধাক্কি করতে হয়। কারা এই মারামারির সাথে জড়িত আছে আমি খোঁজ নিচ্ছি।

এ ঘটনায় একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজকে ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, আগামী রোববার আমরা ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী মিলে বসবো। বসে এর সমাধান করবো।

স্থানীয় একজনকে মারধরের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মাদ কামাল উদ্দিন বলেন, আমি তোমার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারলাম। আমি এখনি সহকারী প্রক্টরদের এ ঘটনা সম্পৰ্কে খোঁজ নেয়ার জন্য বলছি। এ ব্যাপারে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিব।