• 08 Aug
  • 09:45 PM
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অবদান রাখতে বিভিন্ন গবেষণায় নিটার

রুবেল আকন্দ, নিটার প্রতিনিধি 08 Aug, 22

বিরাজমান সমস্যা নিরসনকল্পে নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন ঘটাতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার সূতিকাগার হিসেবে ধরা হয় দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার) এর ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশিদার হওয়ার লক্ষ্যে উদ্ভাবন করেছে নিত্য নতুন প্রযুক্তি।

সোমবার (০৮ আগস্ট) নিটারের ইইই ডিপার্টমেন্টের ল্যাবে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উপযোগী ২১ টি প্রজেক্ট সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত উপস্থাপন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিটারের ইইই ডিপার্টমেন্টের প্রধান ও এডমিন ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক মো. মামুন-উর রশিদ, লেকচারার সাখাওয়াত পারভেজ, মুয়াজ রহমান, নিরুপম দাস, রুচিরা তাবাসসুম, ধীমান দে ও ল্যাব সহকারী হাফিজুল রহমান।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবেও প্রবেশ করছে দেশ। উন্নতদেশে পরিণত হওয়ার অন্যতম হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে রোবটিক ব্যবহার। সেই লক্ষ্য তৈরী করা হয়েছে অটোমেটিক গ্যাস ডিটেক্টর ডিভাইস যার ফলে ইন্ডাস্ট্রি, বাসা বাড়ি সহ যাবতীয় জায়গায় গ্যাসের লিকেজ হলে এই ডিভাইস সনাক্ত করতে সক্ষম হবে এবং গ্যাস লিকেজ থেকে যাতে ভয়াবহ দূর্ঘটনার সৃষ্টি না হয় সেজন্য এই ডিভাইস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে নিজস্ব সিস্টেম ব্যবহার করে।

তৈরী করা হয়েছে অটোমেটিক রিচার্জজেবল স্ট্রিট লাইট। যে লাইট সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং সন্ধ্যা হলে বা অন্ধকারে একাই জ্বলবে সেই সাথে ভোরের আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে একাই বন্ধ হয়ে যাবে। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে এই প্রজেক্টটি তৈরী করে শিক্ষার্থীরা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে একইসাথে শিক্ষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ইইই ডিপার্টমেন্ট এর লেকচারার নিরুপম দাস বলেন, অটোমেটিক রিচার্জজেবল স্ট্রিট লাইট প্রজেক্ট টা বেশ যুগোপযোগী একটি আবিষ্কার। কেননা বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ এর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যদি এই প্রজেক্টটি বাজারজাত করা যায় তাহলে দেশের বিদ্যুৎ এর উপর চাপ কমানো সম্ভব হবে একই সাথে জ্বালানি তেলের দাম ও হ্রাস পাবে বলে মনে করি।

ইইই ডিপার্টমেন্টের লেকচারার মুয়াজ রহমান বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরি করা তৃতীয় চক্ষু বা সেন্সরযুক্ত চশমার উদ্ভাবন টাও বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। তিনি বলেন এই চশমা পরিহিত একজন ব্যক্তির ডানে বামে বা সামনে থেকে যদি কোন বস্তু হটাৎ চলে আসলে তাহলে এই চশমা পরিহিত ব্যক্তি দুর থেকে সংকেত গ্রহন করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে নিজেকে সুরক্ষা করতে পারবে।

সার্বিক বিষয়ে নিটারের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. মামুন-উর রশিদ বলেন আমাদের শিক্ষার্থীরা মাত্র দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত ইতিমধ্যে তারা যে প্রজেক্ট গুলো তৈরী করেছে সেগুলো সত্যি অভাবনীয় ও প্রশংসার দাবিদার। আমি আশা করবো আগামী দিনে তারা এই প্রজেক্ট গুলো আরো ডেভেলপ করে বাস্তবিক অর্থে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রয়োগ করতে পারলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অবদান রেখে নিটার যেমন সুনাম কুড়াবে তেমনি দেশ উপকৃত হবে।